বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত তেল ট্যাংকারে বোমা হামলা হয়েছে : সৌদি আরব

সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রিয়াদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরে নোঙর করে থাকা তেল ট্যাংকারটিতে বিস্ফোরক ভরা নৌকাযোগে হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সোমবারের (১৪ ডিসেম্বর) প্রথম প্রহরে জেদ্দা বন্দরের জ্বালানি টার্মিনালে হামলার ঘটনায় ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে গেলেও দ্রুত তা নিভিয়ে ফেলা হয়। এর আগে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ট্যাংকার বি ডাব্লিউ রাইনের মালিক পক্ষ জানিয়েছিল, ‘বাহ্যিক একটি উৎস থেকে’ ট্যাংকারটিতে হামলা চালানো হয়েছে, এতে জাহাজটির কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলার জন্য কারা দায়ী বলে সন্দেহ করছে তারা, সে বিষয়ে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় কিছু বলেনি। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ আগে সৌদি আরবের দুটি তেল স্থাপনায় ও মাল্টার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারে কথিত হামলার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি নিউজ। সোমবার ট্যাংকার কোম্পানি হাফনিয়া বিবৃতির মাধ্যমে জানায়, বি ডাব্লিউ রাইন স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে জেদ্দা বন্দরে তেল খালাস করার সময় বাহ্যিক একটি উৎস থেকে আঘাত প্রাপ্ত হয়, এতে বিস্ফোরণ ঘটে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। বেশ কয়েকটি টাগ বোট ও তীরে থাকা দমকল বাহিনীর সহায়তায় ট্যাংকারের ক্রুরা আগুন নিভিয়ে ফেলে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি; কিন্তু জাহাজটির পোর্ট সাইডের (বাম পাশের) একটি ওয়াটার ব্যালাস্ট ট্যাংক ও একটি কার্গো ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) নৌ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেদ্দায় একটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, নিশ্চিত করা যায়নি এমন প্রতিবেদনগুলোতে এ ঘটনায় দ্বিতীয় আরেকটি জাহাজের জড়িত থাকার কথাও বলা হয়েছে। সোমবার বিকালে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার আগ পর্যন্ত ঘটনাটি নিশ্চিত করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিস্ফোরণের এ ঘটনায় জেদ্দা বন্দরের আনলোডিং কার্যক্রম বা সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)। এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়।