কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বোরো ধানক্ষেতে নেকব্লাস্টার রোগে আক্রান্ত দিশেহারা কৃষক
- In -- জেলার খবর --
- Apr 25, 2021 --
মাসুদ রানা, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় নেকব্লাস্টার রোগে আক্রান্ত প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর বোরোধান ক্ষেত, দিশেহারাপ্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা।
রবিবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে গেলে,উপজেলাবাইটকামারী,নলবাড়ি, টাপুরচর, তিনতেলী, খনজনমরা, শৌলমারী, বড়াইকান্দি, চেংটাপাড়া, সুতিরপাড়, বামনেরচর, চরবামুনেরচর, ইজলামারী, ঝগড়ারচর, হাপাতিকান্দাসহ বিভিন্ন ধানের মাঠে দেখা যায়, উচ্চফলনশীল ২৮, ৮১ ও ৮২ জাতের ধান ক্ষেত নেকব্লাস্টার রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর ফসলের মাঠ।বন্যার পর এবার নেকব্লাস্টার রোগে ফসল না পেয়ে দিশে হারা হয়ে পড়েছে রৌমারী উপজেলার কৃষকরা। বোরোধান রোপনের শুরুতে ভালো ফসল দেখে কৃষক খুশি হলেওএখন কৃষকের চোখে মুখে হতাশারছাপ দেখা দিয়েছে। সরকারী ভাবে আর্থিক সহযোগিতা চায় ক্ষতি গ্রস্থ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা য়ায়, এ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল, হাইব্রিড ২৮,৮১,৮২, ৫১,৫২,৫৬ জাতের দশ হাজার২০ হেক্টরজমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বোরো ধানের জমি নেকব্লাস্টার রোগে আক্রামন হওয়ায় লক্ষমাত্র অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।বাইটকামারী গ্রামের ফরিজুল ইসলাম, নজরুলইসলাম, বসির উদ্দিনবলেন, আমারা ক্ষৃদ্র কৃষক বোরো আবাদ করে সারা বছর ঘরের ধানের ভাত খাই। এবার ধানের র্শীষমরা রোগে সব শেষ হয়ে গেছে। কুষি অফিসের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে আসেনাই, সরকার বেতন দেয়, ওরা ঘরে বসে বউ পলা পাননিয়া সুখে থাকে, কৃষকের খবর নাই।আমরা সরকারের কাছে ক্ষতি পূরর্ণ চাই।
চরবা মুনের চর গ্রামের আবুল হাশেম, হাবিবুর রহমান জানান, সারা উপজেলায় নেকব্লাস্টার রোগে আক্রান্ত হলেও কৃষি বিভাগ থেকে কোনো উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষদের পরামর্শ দিতে মাঠে এসে নাই। তাদের উদাসীনতার কারণে কৃষদের সর্বনাশ হয়েছে। বাগুয়ার চরগ্রামের ছাইদুর রহমানবলেন, দেড় বিঘা জায়গা ধানআবাধ করছি, বাইল(শীষ) পচা রোগের জন্য ১২শত টাকা দিয়া বাজারে সারের দোকান থেকে ঔষধ কিনে দুইবার ঔষধ দিয়ে স্প্রে করে কোন লাভ হয় নাই। আমাগো সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে, সারা বছর খামুকি, ঢাকা কামলা (শ্রম) দেওয়ার জন্য যামু করোনাভাইরাসের কারণে যাইবার পারতাছিনা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তামো. শাহরিয়ার হোসেন, জানান, উচ্চফলনশীল ২৮ জাতের ধান ক্ষেত নেকব্লাস্টার রোগে আক্রান্ত বেশি হয়েছে, এছাড়াও ৮১ ও ৮২ জাতেরধান ক্ষেতে নেকব্লাস্টার রোগে আক্রান্ত হয়েছে তুলুনামুলক কম। আমরা কৃষকদের ২৮ জাতের ধান চাষে নিষেধ করি নেকব্লাস্টার রোগেরকারণে। সারা বাংলাদেশেই নেকব্লাস্টার রোগের বেশিআক্রমনহয়েছে। আমারা যথাসাধ্য চেষ্টাকরেছি, এ রোগ প্রতিরোধ করার জন্য। কৃষকদের সচেতনতার অভাবে এ রোগেআক্রমন বেশিহয়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি স্প্রে করার জন্য, কৃষক সফলতাও পাচ্ছে।
1729344490.jpg)
1576306355.gif)
1576304475.gif)