গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ঈদের শুভেচ্ছা নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা
- In -- রাজনীতি --
- Apr 25, 2023 --
নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্ধের আগে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু গাজীপুর সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রমজান মাস এবং ঈদ প্রার্থীগণকে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগাম প্রচারণার সুযোগ এনে দিয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনানুষ্ঠানিক আগাম প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীগণ।নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রার্থীগণ সকলেই আচরণবিধির বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন। তাই তারা প্রকাশ্যে কোন প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না। তারা ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদের আগের দিন থেকে রোববার পর্যন্ত প্রার্থীগণ ঈদের দাওয়াত দেওয়া ও নেওয়া, ঈদের নামাজ আদায়, ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে তারা আগাম ও অনানুষ্ঠানিক প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসবের মাধ্যমে প্রার্থীগণ বিভিন্ন এলাকায় যেতে পারছেন, স্থানীয় নেতাকর্মী, মুসল্লী এবং জনসাধারণের সাথে কথা বলার মাধ্যমে আলোচনা এবং মতবিনিময় করে নিচ্ছেন। প্রার্থীরা জানান, যেখানে তারা যান, ঘুরে ফিরে সেখানে নির্বাচনের প্রসঙ্গটি উঠে আসে। এই সুযোগে তারা নির্বাচন নিয়ে তাদের পরিকল্পনা, তারা নির্বাচিত হলে এলাকার এবং জনসাধারণের কল্যাণে কি কি করবেন এসব বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে সমর্থন চাওয়া এবং ভোটারদের ভোট প্রার্থনা করছেন। এক্ষেত্রে দলীয় মনোনীত প্রার্থীগণ একটু এগিয়ে থাকছেন। কারণ তারা প্রতীকসহ ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করতে পারছেন, কিন্তু যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন, তারা এখনো প্রতীক না পাওয়ায় তাদেরকে প্রতীক ছাড়াই জনসাধারণের মনোযোগ ও সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করে যেতে হচ্ছে।নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আজমতুল্লাহ খান গাজীপুর মহানগরীর ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এখানেই স্থানীয় সংসদ সদস্য, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, গাজীপুর জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজ শেষে আজমত উল্লাহ খান উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তিনি সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। পরে তিনি উল্লেখিত নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনে যান এবং সেখানে কিছু সময় কাটান। পরে তিনি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ঈদের পরে তিনি গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার ৪২নং ওয়ার্ডে বিন্দান এলাকায় ঈদ পূণর্মিলনী ও বৈশাখী উৎসবীয় (নববর্ষ ১৪৩০) মেলায় অংশ গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্বজন ও বন্ধু এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বিভিন্ন দাওয়াতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় সেখানে আগত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মানুষজনের সাথে আলোচনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নির্বাচনী সব রকম সহযোগিতা কামনা করেন।
অপর আলোচিত সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত মেয়র আলহাজ্ব এ্যাড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। তিনিও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন তার নিজ বাড়িতে। নগরীর হারিকেন এলাকায় বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার কর্মী সমর্থক এবং অনুসারীরা তার সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে তার বাসায় আসেন এবং তার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদের আগে ও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আগামী ২৫ মে সিটি নির্বাচনের ভোট। আমি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে তিন বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কি ভালো করেছি, কি খারাপ করেছি সেটি সব নাগরিকই জানেন। তাই প্রত্যেকটি নাগরিকের প্রতি আমার অনুরোধ রইলো, তারা যেন সৎ দক্ষ এবং পরীক্ষিত মানুষকে ভোট দেয়। কোনভাবেই যেন কোন অন্যায়কারীকে, কোন মুখোশধারীকে, কোন অভিনয়কারীকে যেন তারা ভোট না দেয়।
তিনি আরো বলেন, সামনে আমার পরীক্ষা দেওয়ার সময়। আমি এই পরীক্ষাটি দিতে চাই। আমি ভালো করেছি, কি খারাপ করেছি, নগরবাসীর উন্নয়ন করেছি, নাকি তাদের ক্ষতি করেছি, সেই হিসেবে আমি পরীক্ষার মাঠে থাকতে চাই। আমাকে যেহেতু লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করেছে, সে হিসেবে আমি তাদের কাছে সেই জিনিসটা প্রত্যাশা করি।
তিনি আরো বলেন, আমার কর্মের উপরে তারা যেন ভোট দেয়। আমি যা করেছি তার মূল্যায়ন করে যেন তারা ভোট দেয়। আমি নগরবাসীর কাছে সে ধরনের সহযোগিতা কামনা করি।---
অপর মেয়র প্রার্থী, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী জাতীয় পার্টির গাজীপুর মহানগর সভাপতি ও সাবেক সচিব এম এম নেয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি অনেক মানুষের সাথে কথা বলার, আলোচনা করার এবং তাদের মতামত পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। নিজের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের দাওয়াত দেওয়া, তাদের দাওয়াত গ্রহণ করা, তাদের বাড়িতে যাওয়াসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতে হয়েছে। ফলে ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমাদের নির্বাচনী কাজটিও হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমি টঙ্গীর মরকুন কবরস্থান জামে মসজিদে ঈদের জামাত আদায় করেছি। সেখানে মুসুল্লিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। তাদের কাছ থেকে দোয়া চেয়েছি।
তিনি বলেন, ঈদের পরে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে এবং মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সবাই একটি ভালো নির্বাচন আশা করছেন এবং তারা যাতে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারেন, তারা সেই অপেক্ষায় রয়েছেন। এসময় তিনি বলেন, আমি আশা করি নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ভোট আয়োজন করবে। যাতে মানুষ তার পছন্দের প্রার্থীকে নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ইভিএমকে অনেকে জাদুর বাক্স বলে থাকে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নির্বাচন কমিশন সকল অনিয়ম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং মানুষের আস্থা অর্জনে তারা আপসহীন ভাবে কাজ করবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত অপর মেয়র প্রার্থী আতাউর রহমান গাজী, গাজীপুর মহানগরীর ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে ঈদের জামাত আদায় করেন। পরে তিনি আগত মুসল্লী নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজনের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
তফসিল অনুযায়ী আগামি ২৭ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ৩০ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বাছাই, ৮ মে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, ৯ মে প্রতিক বরাদ্দ এবং ২৫ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
1729344490.jpg)
1576306355.gif)
1576304475.gif)